ঢাকা , Thursday, 23 April 2026
শিরোনাম ::
জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা  ত্রিশালে ২৮ প্রকল্পে ‘শূন্য কাজ’: ৭৪ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ ভুয়া বিল–ভাউচার থেকে তেল চুরি—এলজিইডির মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসন থেকে নারী এমপি প্রার্থীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুক্তারামপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সুন্নি মহাসম্মেলনে মুমিন মুসলমানদেরকে দাওয়াত। নবীনগর উপজেলা বরিকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন নিহত,ও ৩ জন আহত হয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এডভোকেট এম এ মান্নান। নবীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত। নবীনগরে বিদ্যাকুট ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। নবীনগরে যুবদল নেতার ওপর নিজ বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ, গুরুতর আহত মুকুলকে ঢাকায় প্রেরণ।
নোটিশ :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপডেট নিউজ থিমটি ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01732667364। আমাদের আরো নিউজ থিম দেখতে ভিজিট করুন www.themesbazar.com

ময়মনসিংহের ময়নাঃ স্বপ্নের পথে অটল অধ্যবসায়।

আলপিনা আক্তার,বিশেষ প্রতিনিধি।

ময়না (ছদ্মনাম),বয়স মাত্র ১৮। বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে। সম্প্রতি এইচএসসি পাশ করা এই মেয়েটির স্বপ্ন ছিল নার্স হয়ে মানুষের সেবা করা। সে কারণেই অংশ নেয় নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—চান্স না পেয়ে প্রথম ধাপেই থেমে যায় তার স্বপ্ন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ময়নার চারপাশে তখন হতাশার ছায়া। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সমাজের চাপ আর ভরসাহীন পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। ঠিক এই সময়েই তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর নতুন মোড়–বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেকেই মনে করেন, এ বয়সে বিয়ে মানেই পড়াশোনার সমাপ্তি। কিন্তু ময়নার জীবনে ঘটল ভিন্ন এক ঘটনা। তার স্বামী ময়নার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও দৃঢ়তা দেখে সাহসী এবং যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিলেন—তিনি ময়নাকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে (এলএলবি) ভর্তি করাবেন।

এখনও ভর্তি হয়নি, তবে সিদ্ধান্ত একেবারেই চূড়ান্ত। পরিবারের সীমাবদ্ধতা ও ব্যয়বহুল এই পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তবুও স্বামী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—যেভাবেই হোক, ময়নার পড়াশোনা থামবে না। স্ত্রীকে পাশে দাঁড় করানোর এই মনোভাব ময়নাকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ময়নাও সেই আশায় খুশি ও উচ্ছ্বাসে ভরে গেছে। হতাশা ভুলে সে আবার নতুন করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এখন আর শুধু নার্স হওয়ার স্বপ্ন নয়—সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়েই এগোচ্ছে সে। স্বামীর সিদ্ধান্তের গুরুত্ব–ময়নার জীবনে এই পরিবর্তনের মূল শক্তি তার স্বামী। সমাজ যেখানে প্রায়ই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, সেখানে তিনি উল্টো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়েকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে দিতে। এ সিদ্ধান্ত শুধু ময়নার জন্যই নয়, তার পরিবার ও গ্রামের জন্যও একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়নাও বলছে—“আমার স্বামী না থাকলে হয়তো আমি আবার পড়াশোনার কথা ভাবতেই পারতাম না। উনি পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আমি স্বপ্ন দেখতে সাহস পাচ্ছি।”পরিবার ও সমাজের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা-ময়নার গল্প শুধু একটি মেয়ের জীবনসংগ্রামের আখ্যান নয়, এটি একটি বড় শিক্ষা। স্বপ্ন ভাঙলেও সঠিক সহায়তা পেলে আবার নতুনভাবে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। বিয়ের পরেও মেয়েদের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে—যদি পরিবার বা সঙ্গী পাশে দাঁড়ায়। আজকের সমাজে অনেক তরুণী প্রাপ্য সুযোগ হারিয়ে ফেলে শুধু পরিবেশ ও সহায়তার অভাবে। অথচ সামান্য উৎসাহ, ভালোবাসা আর সহযোগিতা তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।বাংলাদেশে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারায় বহু তরুণী। অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক চাপ অনেক মেয়ের পড়াশোনার পথে বাধা হয়।ইতিবাচক মানসিকতার স্বামী বা পরিবার পাশে দাঁড়ালে মেয়েরা বিয়ের পরও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে।υময়নার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি পরিবারের সামান্য সহযোগিতাই পারে ভেঙে যাওয়া স্বপ্নকে নতুন আলোয় ফিরিয়ে আনতে। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি নিজেদের আশেপাশের মেয়েদের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে একইভাবে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত? বা একজন স্বামীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে,সেটিই ময়নার গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরে। আপনিও কি মনে করেন—পরিবার ও সমাজ যদি পাশে দাঁড়ায়,তবে মেয়েদের শিক্ষার পথ কখনোই বন্ধ হয় না?”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা 

ময়মনসিংহের ময়নাঃ স্বপ্নের পথে অটল অধ্যবসায়।

আপডেট সময় 05:08:02 pm, Saturday, 23 August 2025

আলপিনা আক্তার,বিশেষ প্রতিনিধি।

ময়না (ছদ্মনাম),বয়স মাত্র ১৮। বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে। সম্প্রতি এইচএসসি পাশ করা এই মেয়েটির স্বপ্ন ছিল নার্স হয়ে মানুষের সেবা করা। সে কারণেই অংশ নেয় নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—চান্স না পেয়ে প্রথম ধাপেই থেমে যায় তার স্বপ্ন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ময়নার চারপাশে তখন হতাশার ছায়া। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সমাজের চাপ আর ভরসাহীন পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। ঠিক এই সময়েই তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর নতুন মোড়–বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেকেই মনে করেন, এ বয়সে বিয়ে মানেই পড়াশোনার সমাপ্তি। কিন্তু ময়নার জীবনে ঘটল ভিন্ন এক ঘটনা। তার স্বামী ময়নার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও দৃঢ়তা দেখে সাহসী এবং যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিলেন—তিনি ময়নাকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে (এলএলবি) ভর্তি করাবেন।

এখনও ভর্তি হয়নি, তবে সিদ্ধান্ত একেবারেই চূড়ান্ত। পরিবারের সীমাবদ্ধতা ও ব্যয়বহুল এই পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তবুও স্বামী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—যেভাবেই হোক, ময়নার পড়াশোনা থামবে না। স্ত্রীকে পাশে দাঁড় করানোর এই মনোভাব ময়নাকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ময়নাও সেই আশায় খুশি ও উচ্ছ্বাসে ভরে গেছে। হতাশা ভুলে সে আবার নতুন করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এখন আর শুধু নার্স হওয়ার স্বপ্ন নয়—সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়েই এগোচ্ছে সে। স্বামীর সিদ্ধান্তের গুরুত্ব–ময়নার জীবনে এই পরিবর্তনের মূল শক্তি তার স্বামী। সমাজ যেখানে প্রায়ই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়, সেখানে তিনি উল্টো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়েকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে দিতে। এ সিদ্ধান্ত শুধু ময়নার জন্যই নয়, তার পরিবার ও গ্রামের জন্যও একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়নাও বলছে—“আমার স্বামী না থাকলে হয়তো আমি আবার পড়াশোনার কথা ভাবতেই পারতাম না। উনি পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আমি স্বপ্ন দেখতে সাহস পাচ্ছি।”পরিবার ও সমাজের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা-ময়নার গল্প শুধু একটি মেয়ের জীবনসংগ্রামের আখ্যান নয়, এটি একটি বড় শিক্ষা। স্বপ্ন ভাঙলেও সঠিক সহায়তা পেলে আবার নতুনভাবে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। বিয়ের পরেও মেয়েদের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে—যদি পরিবার বা সঙ্গী পাশে দাঁড়ায়। আজকের সমাজে অনেক তরুণী প্রাপ্য সুযোগ হারিয়ে ফেলে শুধু পরিবেশ ও সহায়তার অভাবে। অথচ সামান্য উৎসাহ, ভালোবাসা আর সহযোগিতা তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।বাংলাদেশে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারায় বহু তরুণী। অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক চাপ অনেক মেয়ের পড়াশোনার পথে বাধা হয়।ইতিবাচক মানসিকতার স্বামী বা পরিবার পাশে দাঁড়ালে মেয়েরা বিয়ের পরও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে।υময়নার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি পরিবারের সামান্য সহযোগিতাই পারে ভেঙে যাওয়া স্বপ্নকে নতুন আলোয় ফিরিয়ে আনতে। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি নিজেদের আশেপাশের মেয়েদের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে একইভাবে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত? বা একজন স্বামীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে,সেটিই ময়নার গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরে। আপনিও কি মনে করেন—পরিবার ও সমাজ যদি পাশে দাঁড়ায়,তবে মেয়েদের শিক্ষার পথ কখনোই বন্ধ হয় না?”