ঢাকা , Friday, 12 June 2026
শিরোনাম ::
জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা  ত্রিশালে ২৮ প্রকল্পে ‘শূন্য কাজ’: ৭৪ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ ভুয়া বিল–ভাউচার থেকে তেল চুরি—এলজিইডির মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসন থেকে নারী এমপি প্রার্থীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুক্তারামপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সুন্নি মহাসম্মেলনে মুমিন মুসলমানদেরকে দাওয়াত। নবীনগর উপজেলা বরিকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন নিহত,ও ৩ জন আহত হয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এডভোকেট এম এ মান্নান। নবীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত। নবীনগরে বিদ্যাকুট ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। নবীনগরে যুবদল নেতার ওপর নিজ বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ, গুরুতর আহত মুকুলকে ঢাকায় প্রেরণ।
নোটিশ :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপডেট নিউজ থিমটি ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01732667364। আমাদের আরো নিউজ থিম দেখতে ভিজিট করুন www.themesbazar.com

জুলাই ছাত্র হত্যার আসামি সজীব: অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, প্রভাবে নির্ভীক।

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার রামপুরা ও ভাটারা থানায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব (৫৪)। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও জেল খেটে আসা এই আসামি শত অপরাধের পরও আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বুকে। প্রশ্ন উঠছে—তার এ বেপরোয়া শক্তির উৎস কোথায়? রামপুরা থানার মামলা নং ৩৪৮/২০২৫-এ তিনি ৭ নং আসামি এবং ভাটারা থানার মামলা নং ১৩৯/২০২৫-এ ৬৯ নং আসামি। দুই থানায় ছাত্র হত্যার মামলায় নাম আসামির তালিকায় থাকার পরও সজীবের দৌরাত্ম্য থামেনি। বিগত সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দখলদারি ও ভুয়া মামলা বানানোর মতো অসংখ্য অপরাধের ‘স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তোলেন। হামলা-লুটপাটের ঘটনাঃ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজধানীর কর্নফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালান সজীব। বাসায় না থাকায় মালিকের সন্তান ও কাজের ছেলেকে মারধর করা হয়, লুট করে নেওয়া হয় স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ট্যাব ও অন্যান্য মালামাল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার বাহিনীকে স্পষ্ট দেখা গেলেও ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী এসে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জন সন্ত্রাসীকে আটক করলেও মূল পরিকল্পনাকারী সজীব থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরবর্তীতে রমনা থানায় মামলা (নং-২, ১৮/০৮/২০২৪) দায়ের হলেও তার দাপট কমেনি। দীর্ঘ অপরাধের তালিকা:২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক নারী আইনজীবীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে মামলা (নং ২৩) হয়। ২০২৩ সালে হাতিরঝিলে তৌহিদুল ইসলামকে কোটি টাকার প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন; মামলা (সি আর ৭২৭/২০২৩) থেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে আসেন। একই বছরে রামপুরায় বেলায়েত হোসেন অনিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন; মামলা (সি আর ৩৯০/২০২৩)। মৌলভীবাজার সদর থানায় আইসিটি আইনে ২০২৪ সালে গ্রেফতার হন। ২০২৩ সালের আগস্টে হাতিরঝিলে মাদকসহ গ্রেফতার হন; মামলা নং ডিএমপি এফআইআর ৩৩/২০২৩। আতঙ্কের রাজত্বঃ কাকরাইলের কর্নফুলী গার্ডেন সিটিতে নিয়মিত লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো সজীবের ভয়ে আতঙ্কিত সাধারণ ফ্ল্যাটবাসী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা তাকে সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। মাসিক মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে থানা-পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।অ্যাপার্টমেন্টের এক নারী বাসিন্দা বলেন, “সজীব আমাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছে—বাসায় ঢুকে সবাইকে মেরে ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দেবে।” অপর এক মালিক জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও সমিতির অফিস থেকে ম্যানেজার সামসুদ্দিনকে তালাবদ্ধ করে বের করে দেন সজীব। প্রশ্ন রয়ে যায়ঃশত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি যদি অবাধে অপরাধের সাম্রাজ্য চালাতে পারেন, সাধারণ মানুষকে ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করতে পারেন—তাহলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কোথায়? সাইফুল ইসলাম সজীবের খুটির জোর যদি সত্যিই পুলিশ ও রাজনীতির শেল্টারে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা 

জুলাই ছাত্র হত্যার আসামি সজীব: অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, প্রভাবে নির্ভীক।

আপডেট সময় 07:47:40 am, Monday, 8 September 2025

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার রামপুরা ও ভাটারা থানায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব (৫৪)। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও জেল খেটে আসা এই আসামি শত অপরাধের পরও আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বুকে। প্রশ্ন উঠছে—তার এ বেপরোয়া শক্তির উৎস কোথায়? রামপুরা থানার মামলা নং ৩৪৮/২০২৫-এ তিনি ৭ নং আসামি এবং ভাটারা থানার মামলা নং ১৩৯/২০২৫-এ ৬৯ নং আসামি। দুই থানায় ছাত্র হত্যার মামলায় নাম আসামির তালিকায় থাকার পরও সজীবের দৌরাত্ম্য থামেনি। বিগত সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দখলদারি ও ভুয়া মামলা বানানোর মতো অসংখ্য অপরাধের ‘স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তোলেন। হামলা-লুটপাটের ঘটনাঃ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজধানীর কর্নফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালান সজীব। বাসায় না থাকায় মালিকের সন্তান ও কাজের ছেলেকে মারধর করা হয়, লুট করে নেওয়া হয় স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ট্যাব ও অন্যান্য মালামাল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার বাহিনীকে স্পষ্ট দেখা গেলেও ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী এসে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জন সন্ত্রাসীকে আটক করলেও মূল পরিকল্পনাকারী সজীব থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরবর্তীতে রমনা থানায় মামলা (নং-২, ১৮/০৮/২০২৪) দায়ের হলেও তার দাপট কমেনি। দীর্ঘ অপরাধের তালিকা:২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক নারী আইনজীবীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে মামলা (নং ২৩) হয়। ২০২৩ সালে হাতিরঝিলে তৌহিদুল ইসলামকে কোটি টাকার প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন; মামলা (সি আর ৭২৭/২০২৩) থেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে আসেন। একই বছরে রামপুরায় বেলায়েত হোসেন অনিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন; মামলা (সি আর ৩৯০/২০২৩)। মৌলভীবাজার সদর থানায় আইসিটি আইনে ২০২৪ সালে গ্রেফতার হন। ২০২৩ সালের আগস্টে হাতিরঝিলে মাদকসহ গ্রেফতার হন; মামলা নং ডিএমপি এফআইআর ৩৩/২০২৩। আতঙ্কের রাজত্বঃ কাকরাইলের কর্নফুলী গার্ডেন সিটিতে নিয়মিত লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো সজীবের ভয়ে আতঙ্কিত সাধারণ ফ্ল্যাটবাসী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা তাকে সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। মাসিক মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে থানা-পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।অ্যাপার্টমেন্টের এক নারী বাসিন্দা বলেন, “সজীব আমাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছে—বাসায় ঢুকে সবাইকে মেরে ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দেবে।” অপর এক মালিক জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও সমিতির অফিস থেকে ম্যানেজার সামসুদ্দিনকে তালাবদ্ধ করে বের করে দেন সজীব। প্রশ্ন রয়ে যায়ঃশত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি যদি অবাধে অপরাধের সাম্রাজ্য চালাতে পারেন, সাধারণ মানুষকে ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করতে পারেন—তাহলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কোথায়? সাইফুল ইসলাম সজীবের খুটির জোর যদি সত্যিই পুলিশ ও রাজনীতির শেল্টারে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?