ঢাকা , Friday, 24 April 2026
শিরোনাম ::
জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা  ত্রিশালে ২৮ প্রকল্পে ‘শূন্য কাজ’: ৭৪ লাখ টাকার হিসাব কোথায়? পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ ভুয়া বিল–ভাউচার থেকে তেল চুরি—এলজিইডির মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসন থেকে নারী এমপি প্রার্থীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুক্তারামপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সুন্নি মহাসম্মেলনে মুমিন মুসলমানদেরকে দাওয়াত। নবীনগর উপজেলা বরিকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন নিহত,ও ৩ জন আহত হয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এডভোকেট এম এ মান্নান। নবীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত। নবীনগরে বিদ্যাকুট ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। নবীনগরে যুবদল নেতার ওপর নিজ বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণ, গুরুতর আহত মুকুলকে ঢাকায় প্রেরণ।
নোটিশ :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপডেট নিউজ থিমটি ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01732667364। আমাদের আরো নিউজ থিম দেখতে ভিজিট করুন www.themesbazar.com

শিক্ষা ব্যবস্থায় কলঙ্ক! তারাকান্দায় এমপিওভুক্ত কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ কেলেঙ্কারি।

শিক্ষা ব্যবস্থায় কলঙ্ক! তারাকান্দায় এমপিওভুক্ত কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ কেলেঙ্কারি

 

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার “ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজে” ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। EIIN নং ১০৪২১৫, কলেজ কোড ৭২৯০—২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে কোনো প্রকার এনটিআরসিএ (NTRCA) নিবন্ধন ছাড়াই ২১ জন শিক্ষককে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রত্যেক শিক্ষককে ১৫-২০ লাখ টাকা করে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়ভিত্তিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়, যেখানে এক বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীকেও ভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে! নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম: একেএম মিজানুর রহমান – প্রভাষক, চারু ও কারুকলা। ছমির উদ্দিন– প্রভাষক,মৃত্তিকা বিজ্ঞান। রেবেকা সুলতানা– প্রভাষক, নাট্যকলা। আফজালুর রহমান– প্রভাষক, সামাজিক সম্পর্ক। মাধবী সরকার– প্রভাষক,সংস্কৃত। মোঃ শাজাহান–প্রভাষক, প্রকৌশল অংকন। আব্দুর রাজ্জাক–প্রভাষক, সংগীত। মোঃ মহসিন মিয়া–ফিন্যান্স,ব্যাংকিং ও বীমা। নিলুফা আক্তার–গার্হ্যস্থ্য অর্থনীতি। আতিকুর রহমান–সংগীত। হেলাল উদ্দিন– নাট্যকলা। আনোয়ার হোসেন–সংস্কৃত। এছাড়াও আরও অনেকে ভূয়া নিয়োগপত্রে শিক্ষকতা করে চলেছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রশাসনিক প্রতারণা। এই নিয়োগে নেই কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,নেই জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিনিধির উপস্থিতি, নেই ফলাফল তালিকা কিংবা স্বচ্ছ নিয়োগ বোর্ডের প্রমাণ। এমনকি সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হোসাইন চৌধুরী নিজেই এসব অনিয়মের মূল হোতা বলে অভিযোগ উঠেছে। পিতার নামে কলেজ স্থাপন করে, সেটি এমপিওভুক্ত করে এই ভয়াবহ নিয়োগ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অধক্ষ্যের প্রতিক্রিয়া,মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ হোসাইন চৌধুরী বলেন,এসব বিষয়ে মোবাইলে নয়,সরাসরি বসে কথা বলি। যদিও একাধিক অনুরোধেও তিনি মোবাইলে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। আইনি পরিপ্রেক্ষিত: এ ধরনের ভুয়া নিয়োগ এবং ঘুষ বানিজ্য ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৬৮, ৪৭১ এবং দুর্নীতি দমন আইনের ৫ ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, যার মধ্যে সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ, ভুয়া দলিল তৈরি এবং জাল স্বাক্ষর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেছেন,“একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘুষের বাজার বানিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি অতি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।” জাতীয় স্বার্থে,শিক্ষার মান রক্ষায় এবং NTRCA-ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রাখতেই এই কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।এই প্রতিবেদন শিক্ষাক্ষেত্রে দায়হীনতা ও দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। পাঠকের বিবেককে নাড়া দিতে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে জাগাতে আমরা এই অনুসন্ধান তুলে ধরছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া সাইবার ফোর্স-জেডসিএফ এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা 

শিক্ষা ব্যবস্থায় কলঙ্ক! তারাকান্দায় এমপিওভুক্ত কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ কেলেঙ্কারি।

আপডেট সময় 04:36:36 pm, Monday, 4 August 2025

শিক্ষা ব্যবস্থায় কলঙ্ক! তারাকান্দায় এমপিওভুক্ত কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ কেলেঙ্কারি

 

শেখ মামুনুর রশীদ মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার “ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজে” ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। EIIN নং ১০৪২১৫, কলেজ কোড ৭২৯০—২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে কোনো প্রকার এনটিআরসিএ (NTRCA) নিবন্ধন ছাড়াই ২১ জন শিক্ষককে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রত্যেক শিক্ষককে ১৫-২০ লাখ টাকা করে ঘুষ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়ভিত্তিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়, যেখানে এক বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীকেও ভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে! নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম: একেএম মিজানুর রহমান – প্রভাষক, চারু ও কারুকলা। ছমির উদ্দিন– প্রভাষক,মৃত্তিকা বিজ্ঞান। রেবেকা সুলতানা– প্রভাষক, নাট্যকলা। আফজালুর রহমান– প্রভাষক, সামাজিক সম্পর্ক। মাধবী সরকার– প্রভাষক,সংস্কৃত। মোঃ শাজাহান–প্রভাষক, প্রকৌশল অংকন। আব্দুর রাজ্জাক–প্রভাষক, সংগীত। মোঃ মহসিন মিয়া–ফিন্যান্স,ব্যাংকিং ও বীমা। নিলুফা আক্তার–গার্হ্যস্থ্য অর্থনীতি। আতিকুর রহমান–সংগীত। হেলাল উদ্দিন– নাট্যকলা। আনোয়ার হোসেন–সংস্কৃত। এছাড়াও আরও অনেকে ভূয়া নিয়োগপত্রে শিক্ষকতা করে চলেছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রশাসনিক প্রতারণা। এই নিয়োগে নেই কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,নেই জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিনিধির উপস্থিতি, নেই ফলাফল তালিকা কিংবা স্বচ্ছ নিয়োগ বোর্ডের প্রমাণ। এমনকি সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হোসাইন চৌধুরী নিজেই এসব অনিয়মের মূল হোতা বলে অভিযোগ উঠেছে। পিতার নামে কলেজ স্থাপন করে, সেটি এমপিওভুক্ত করে এই ভয়াবহ নিয়োগ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অধক্ষ্যের প্রতিক্রিয়া,মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ হোসাইন চৌধুরী বলেন,এসব বিষয়ে মোবাইলে নয়,সরাসরি বসে কথা বলি। যদিও একাধিক অনুরোধেও তিনি মোবাইলে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। আইনি পরিপ্রেক্ষিত: এ ধরনের ভুয়া নিয়োগ এবং ঘুষ বানিজ্য ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৬৮, ৪৭১ এবং দুর্নীতি দমন আইনের ৫ ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, যার মধ্যে সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ, ভুয়া দলিল তৈরি এবং জাল স্বাক্ষর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেছেন,“একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘুষের বাজার বানিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি অতি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।” জাতীয় স্বার্থে,শিক্ষার মান রক্ষায় এবং NTRCA-ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রাখতেই এই কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।এই প্রতিবেদন শিক্ষাক্ষেত্রে দায়হীনতা ও দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। পাঠকের বিবেককে নাড়া দিতে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে জাগাতে আমরা এই অনুসন্ধান তুলে ধরছি।