জুনায়েদ, সদর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
গত ২ আগস্ট রোজ শনিবার সকাল ১০ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়োজিত জুলাই আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের শো ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপি'র সভাপতি ও বুয়েট গ্রাজুয়েট ক্লাব সভাপতি জনাব ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ।বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, শহীদ মীর মুগ্ধ'র বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমীন শাহীন প্রমূখ।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নিয়াজ মোহামম্মদ খান বিটু সাহেবের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন বিপুএবং সঞ্চালনা করেন দৈনিক আমার কন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সোহেল আহাদ। দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা মুবারক উল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জনাব ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ওপর দমন চালিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছিল।” তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বোচ্চ ৩০ জন শহীদ হন—এটাই প্রমাণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন, নতুবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, এবং তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “ছাত্র জনতার গণজোয়ার ছাড়া এই অন্যায়ের পাথর নামানো সম্ভব ছিল না। ২০২৪ সালের সাহসী ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে আজকের মুক্ত বাংলাদেশ।বক্তারা বলেন, “জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার করে একটি সাম্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” হাসিনা সরকারের গুলিতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন বিপু জেলার বিভিন্ন উপজেলা ইউনিট থেকে আগত সাংবাদিকদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সবশেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।